Sunday, May 15, 2016

কোরআন গবেষণা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা

2কাগজ অনলাইন ডেস্ক: ইদানীং অনেককেই দেখা যায় পবিত্র কোরআন ও হাদিস চর্চা করছেন। বিষয়টি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে অনেকেই কাজটি করতে যেয়ে কিছু ভুল করছেন। ফলে এটা নিয়ে নানা সময় নানা বির্তক সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে যারা কোরআনে কারিমের মাঝে বিজ্ঞানের অনুসন্ধান নিয়ে সদাব্যস্ত; তারা এই ভুলটি বেশি করছেন।
প্রথমতঃ এমন গবেষকদের অনেকেরই ব্যক্তিগত আমল ত্রুটিপূর্ণ। দাঁড়ি-টুপি ইত্যাদি তো দূরের কথা, নামাজ-রোজা-পর্দার ধারেকাছেও নেই অনেকে। অথচ পরকালের মুক্তি নির্ভর করছে খাঁটি মনে শরিয়তের যথাযথ অনুসরণের ওপর। কোরআনে কারিমের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বের করার ওপর নয়।
আল কোরআনে যারা বিজ্ঞানের থিওরি খুঁজে বেড়ায়, তাদের আরও একটি স্বভাব হলো, তারা হাদিস নিয়ে ততোটা মাথা ঘামায় না; যতোটা মাথা ঘামায় কোথায় কোন বৈজ্ঞানিক কি আবিষ্কার করলেন, কোন পাশ্চাত্য দার্শনিক কি বললেন- সে বিষয়ে। আর সাহাবা (রা.) এবং তাবেয়িদের (রহ.) উক্তি তো তারা শুনতেও নারাজ!
এই শ্রেণির লোকেরা আব্বাসীয় শাসনকালকে (৭৫০ খ্রি.-১২৫৮ খ্রি.) ইসলামের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম সময় বলে ধারণা করেন। কারণ মুসলমানরা তখন জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রভূত উন্নতিসাধন করেছিলো। কিন্তু এমন ধারণাও একটি ভুল। এমন ধারণা ইসলামের আকিদা বিরোধী। কারণ, পবিত্র হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘সর্বোত্তম যুগ হচ্ছে আমার যুগ, অতঃপর আমার পরবর্তীদের যুগ, অতঃপর তাদের পরবর্তীদের যুগ।’
তাদের আরও একটি ভুল মনোভাব হলো, তারা সর্বদা বলে বেড়ায় বর্তমানে বিশ্বের সর্বত্র মুসলমানরা যে হারে লাঞ্ছিত-অপমানিত হচ্ছে- তার মূল কারণ হিসেবে তারা চিহ্নিত করেন আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের অনগ্রসরতাকে। অথচ মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা নিরাশ হয়ো না ও দুঃখ করো না এবং তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।’ -সূরা আল ইমরান: ১৩৯
এ প্রসঙ্গে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি যা এনেছি তার প্রতি পুরোপুরি অনুগত হবে।’ -শরহে সুন্নাহ

No comments:

Post a Comment